যুক্তরাষ্ট্রে গত কয়েক বছরে হাই প্রফাইল বিজ্ঞানী ও সরকারি গবেষকদের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার একাধিক ঘটনা ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে হোয়াইট হাউস।
এরইমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তার ভাষায়, ঘটনাগুলো ‘খুবই গুরুতর বিষয়’।
এই ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, নাকি নিছক কাকতালীয়, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আশা করি এটি কাকতালীয়। তবে, বিষয়টি নিয়ে আমার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক হয়েছে।
ট্রাম্প জানান, আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, তিনি এখনো সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেননি, তবে বিষয়টি সত্য হলে তা অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং তদন্ত করে দেখা হবে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না।
মার্কিন গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে অন্তত ১০ জন বিজ্ঞানী ও সামরিক গবেষক রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন বা মারা গেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের অনেকেই পারমাণবিক, মহাকাশ এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সংবেদনশীল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে—অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ফোর্স মেজর জেনারেল উইলিয়াম ম্যাকক্যাসল্যান্ডের নিখোঁজ হওয়া, নাসার বিজ্ঞানী মনিকা রেজার হাইকিংয়ের সময় নিখোঁজ হওয়া এবং লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আরও কয়েকজন কর্মীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা।
এছাড়া ক্যালটেকের অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট কার্ল গ্রিলমায়ার ও এমআইটির পদার্থবিজ্ঞানী নুনো লরেইরো নিজ নিজ বাড়িতে হামলার শিকার হয়ে নিহত হন। আরও কয়েকজনের মধ্যে নাসার প্রকৌশলী ফ্র্যাঙ্ক মাইওয়াল্ডের মৃত্যু এবং অন্যান্য নিখোঁজ ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও ফক্স নিউজ ডিজিটাল সূত্রে বলা হয়েছে, স্টিভেন গার্সিয়া, মেলিসা কাসিয়াস, অ্যান্থনি শাভেজ এবং জেসন থমাসসহ আরও কয়েকজনও নিখোঁজ বা মৃত্যুর ঘটনায় তালিকাভুক্ত হয়েছেন।
তবে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এখন পর্যন্ত এসব ঘটনার মধ্যে কোনো প্রমাণিত সম্পর্ক কিংবা যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
এদিকে, স্থানীয় তদন্ত সংস্থাগুলো জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা সমন্বিত পরিকল্পনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এরই মধ্যে ঘটনাগুলো ঘিরে অনলাইনে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন পর্যন্ত এগুলোকে একক কোনো ঘটনার অংশ হিসেবে দেখানোর মতো প্রমাণ নেই।