প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করা জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানকে একহাত নিলেন বিএনপি নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া। পাপিয়া বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) তার ফেসবুক পেজে এক পোস্টে রাশেদ প্রধানের তীব্র সমালোচনা করেন।
পোস্টে পাপিয়া লিখেছেন, ‘ইতিহাস বড় নির্মম, কিন্তু তার চেয়েও নির্মম হলো মানুষের অকৃতজ্ঞতা। ১৯৭৪ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলের সেই সাত খুনের ঘটনায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শফিউল আলম প্রধানকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, শফিউল আলম প্রধান সারা জীবন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য নেতৃত্বে তার আদর্শ লালন করে রাজনীতি করেছেন এবং বেগম জিয়ার হাত ধরেই দেশের রাজনীতিতে ঠাঁই পেয়েছেন।আজ অত্যন্ত পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, সেই শফিউল আলম প্রধানের কুলাঙ্গার পুত্র নিজের পারিবারিক ইতিহাস এবং পিতার রাজনৈতিক আশ্রয়ের কথা ভুলে গিয়ে তারেক রহমানকে নিয়ে যে কুরুচিপূর্ণ ও ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য করেছে- তা কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূতই নয়, বরং এটি একটি চরম অকৃতজ্ঞ ও বিকৃত মানসিকতার পরিচয়।’
পাপিয়া লেখেন, ‘যার বাবার জীবন ভিক্ষা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব এই জিয়া পরিবারের দয়ায় টিকে ছিল, আজ সেই পরিবারের উত্তরসূরিকে নিয়ে কটূক্তি করা নিমকহারামির চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করেছে। যে তারেক রহমান আজ দেশের কোটি কোটি তরুণের আশা-ভরসার প্রতীক, তাকে নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য কেবল একজন বিবেকবর্জিত ও মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব।’
পাপিয়া আরও লেখেন, ‘আমরা এই কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। অকৃতজ্ঞতার এই বিষবৃক্ষকে ছুড়ে ফেলার সময় এসেছে। রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়ার জন্য যার পূর্বপুরুষরা জিয়ার আদর্শের কাছে নতজানু ছিল, তাদের মুখে এমন কথা কেবল হাস্যকরই নয়, বরং চরম ধৃষ্টতা।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে রাশেদ প্রধান তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কটূক্তি করেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। একই সঙ্গে অনেকেই তার গ্রেফতার দাবি জানান।