গাছপালা মানুষের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। যুদ্ধের সময়ও নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গাছ কাটতে নিষেধ করেছেন। প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ গাছ। মূল্যবান এ সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই। অকারণে গাছ কাটা, শস্য নষ্ট করা গুনাহের কাজ।
সাহাবি ইবনে সাঈদ (রা.) বর্ণনা করেন, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মদিনার প্রতিটি প্রান্তে সীমানা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে, যাতে গাছপালা কাটা বা মুণ্ডানো না হয়, তবে যেগুলো উট খেয়ে ফেলে সেগুলো ছাড়া। (আবু দাউদ)
পবিত্র কোরআনে গাছ লাগানোর বিষয়ে যা আছে
গাছগাছালি পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা করে। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন,
আমি বিস্তৃত করেছি ভূমিকে, স্থাপন করেছি পর্বতমালা এবং তা হতে উদগত করেছি নয়নজুড়ানো সব ধরনের উদ্ভিদ। এটি আল্লাহর অনুরাগী প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য জ্ঞান ও উপদেশস্বরূপ। আকাশ থেকে আমি বর্ষণ করি উপকারী বৃষ্টি এবং তা দ্বারা আমি সৃষ্টি করি উদ্যান, শস্যরাজি ও সমুন্নত খেজুর বৃক্ষ, যাতে আছে গুচ্ছ গুচ্ছ খেজুর। (সুরা কাহাফ, আয়াত: ৭-১০)।
আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই লতা ও বৃক্ষ উদ্যানগুলো সৃষ্টি করেছেন এবং খেজুর বৃক্ষ, বিভিন্ন স্বাদবিশিষ্ট খাদ্যশস্য, জলপাই বাগান সৃষ্টি করেছেন। তারা একে অন্যের মতো, আলাদা। যখন এসব গাছ ফল দেয় তখন তার ফল থেকে খাবে এবং ফল কাটার দিন আল্লাহর হক আদায় করবে, অপচয় করবে না। (মনে রেখ) তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা আনআম, আয়াত: ১৪১)।
হাদিসে গাছ লাগানোর বিষয়ে যা আছে
গাছ লাগানোকে হাদিসে সদকায়ে জারিয়া বলা হয়েছে। প্রিয়নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন কোনো মুসলমান একটি ফলবান বৃক্ষের চারা রোপণ করে, আর এতে ফল আসার পর সে নিজে অথবা অন্য কোনো মানুষ তা থেকে যা খায়, তা তার জন্য সদকা, যা চুরি হয়, যা কিছু গৃহপালিত পশু এবং অন্যান্য পাখপাখালি খাবে, এসবই তার জন্য সদকা’ (বুখারি ও মুসলিম)।
আরেক হাদিসে গাছ লাগানোর গুরুত্ব সম্পর্কে প্রিয়নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,তুমি যদি নিশ্চিতভাবে জানতে পার যে, কিয়ামত এসে গেছে, আর তোমার হাতে একটি গাছের চারা আছে, তার পরও তা লাগিয়ে দাও। (মিশকাতুল মাসাবিহ)।
আরেক হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো বৃক্ষ রোপণ করে, মহান আল্লাহ এর বিনিময়ে তাকে ওই বৃক্ষের ফলের সমপরিমাণ প্রতিদান দান করবেন।’ (মুসনাদে আহমাদ ২৩৫৬৭) –সময় সংবাদ