ইরানের নৌবাহিনী প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে- এমন দাবি করে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দেশটির ‘ফাস্ট অ্যাটাক’ বা দ্রুতগামী স্পিডবোট বাহিনী এখন পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির কাছে একঝাঁক ছোট নৌযান ব্যবহার করে দুটি কন্টেইনার জাহাজ জব্দের ঘটনাটি প্রমাণ করে, সমুদ্রপথে তেহরানের সামরিক শক্তি এখনও শেষ হয়ে যায়নি। খবর রয়টার্সের।
গত সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, ইরানের বড় যুদ্ধজাহাজগুলো ধ্বংস করা হলেও তাদের ছোট স্পিডবোটগুলোকে বড় হুমকি হিসেবে দেখা হয়নি। তবে মার্কিন অবরোধের ধারেকাছে আসা এমন যেকোনো নৌযানকে অবিলম্বে নির্মূল করা হবে। ট্রাম্প এই ক্ষেত্রে প্রশান্ত মহাসাগরে মাদকবাহী নৌকা ধ্বংসে ব্যবহৃত কিল সিস্টেম প্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক চোরাচালানকারীদের নৌকার তুলনায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) এই বোটগুলো অনেক বেশি বিপজ্জনক। এগুলো ভারি মেশিনগান, রকেট লঞ্চার ও ক্ষেত্রবিশেষে জাহাজ বিধ্বংসী মিসাইল দিয়ে সজ্জিত। গ্রিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ‘ডায়াপ্লোসের’ মতে, ইরান এখন ড্রোন, মাইন ও এই দ্রুতগামী নৌযানগুলোর সমন্বয়ে একটি অপ্রতিসম যুদ্ধ কৌশল বেছে নিয়েছে।
কেন এই স্পিডবোটগুলো বিপজ্জনক?
শনাক্ত করা কঠিন: আকারে ছোট ও অত্যন্ত দ্রুতগামী হওয়ায় এই বোটগুলো রাডারে ধরা পড়া এড়িয়ে ‘হিট অ্যান্ড রান’ পদ্ধতিতে আক্রমণ করতে সক্ষম।
বিপুল সংখ্যা: যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে এমন হাজার হাজার বোট ছিল বলে ধারণা করা হয়। যার বড় অংশই উপকূলীয় টানেল বা বেসামরিক নৌকার আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। ড্রায়েড গ্লোবালের মতে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরান প্রায় ১০০টি এমন বোট হারিয়েছে। যা তাদের মোট শক্তির তুলনায় নগণ্য।
বেসামরিক জাহাজে হামলা: কন্টেইনার বা তেলের ট্যাঙ্কারের মতো নিরস্ত্র বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর পক্ষে সশস্ত্র ইরানি বাহিনীর এই অতর্কিত আক্রমণ ঠেকানো অসম্ভব।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ‘জেনসের’ বিশেষজ্ঞ জেরেমি বিনির মতে, এই বোটগুলো বড় যুদ্ধজাহাজের সরাসরি মোকাবিলা করতে পারবে না। আকাশপথে আক্রমণের মুখেও এগুলো অত্যন্ত দুর্বল। এছাড়া সমুদ্র উত্তাল থাকলে এই ছোট নৌযানগুলো থেকে নিখুঁতভাবে গুলি চালানো বা আক্রমণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।