পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নৌ-অবরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অ্যাডমিরাল ডং জুন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বেইজিং তার বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং এই অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার এক বিশেষ বিবৃতিতে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, “আমাদের জাহাজগুলো নিয়মিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করছে। ইরানের সাথে আমাদের সুনির্দিষ্ট বাণিজ্য ও জ্বালানি চুক্তি রয়েছে। আমরা সেই চুক্তিগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং তা বজায় রাখব।”
অ্যাডমিরাল ডং জুন ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “আমরা আশা করি অন্য কেউ আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে এবং আমাদের জাহাজ চলাচলের জন্য এই পথ উন্মুক্ত।”
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই অবস্থান ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে চলমান স্নায়ুযুদ্ধকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য যে, চীনের আমদানিকৃত খনিজ তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং এলএনজির ৩০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথে কোনো ধরনের মার্কিন অবরোধ চীনের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে যে তারা ইরানি বন্দর অভিমুখে যাওয়া সমস্ত জাহাজে তল্লাশি চালাবে। তবে চীন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা তাদের জাহাজগুলোর অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ইতিমধ্যে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতার সংকেত দিচ্ছে।