উষ্ণ আবহাওয়ার দিনগুলোতে সাধারাণত জুতা এড়িয়ে স্যান্ডেল বা হিল পরা হয়। কিন্তু আপনি জানেন কী- পা যখন বেশি খোলা থাকে, তখন তার যত্ন নেওয়ার প্রয়োজনও বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ঘাম, রোদ, ধুলাবালি ও আর্দ্রতা—সব মিলিয়ে গরমকালে পায়ের জন্য তৈরি হয় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ। তাই এই মৌসুমে পায়ের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে প্রয়োজন কিছু বাড়তি যত্ন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রীষ্মে পায়ের যত্নের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো—
পা পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখুন
গরমে ঘাম বেশি হয়, ফলে পায়ে আর্দ্রতা জমে যায়, যা ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের বৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। ফলে অ্যাথলেটস ফুটের মতো সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। রোজ সাবান ও পানি দিয়ে পা ভালোভাবে ধুতে হবে এবং বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক ভালোভাবে শুকাতে হবে। এ ছাড়া ঘাম শোষণকারী মোজা এবং বাতাস চলাচল করতে পারে এমন জুতা ব্যবহার করলে পা শুকনো ও আরামদায়ক থাকবে।
রোদ থেকে পা সুরক্ষিত রাখুন
কেবলমাত্র মুখ বা হাত নয়, পায়ের ত্বকও সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতিরিক্ত রোদে পা পুড়ে যাওয়া, ত্বক উঠে যাওয়া এমনকি ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। বাইরে বের হওয়ার সময় পায়ে অবশ্যই SPF ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং প্রয়োজনে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর পুনরায় লাগান—বিশেষ করে সাঁতার কাটার পর বা বেশি ঘাম হলে।
সঠিক জুতা নির্বাচন করুন
গরমে স্যান্ডেল, ফ্লিপ-ফ্লপ বা খোলা জুতা পরা হলেও সব ধরনের জুতা পায়ের জন্য ভালো নয়। এমন জুতা বেছে নিন যাতে আর্চ সাপোর্ট, নরম সোল এবং পা ধরে রাখার মতো স্ট্র্যাপ থাকে। খুব পাতলা সোল বা সাপোর্টবিহীন জুতা পায়ে ব্যথা ও আঘাতের কারণ হতে পারে। চামড়া বা মেশ জাতীয় বাতাস চলাচলকারী উপকরণের জুতা পায়ের জন্য বেশি উপকারী।
পায়ের দুর্গন্ধ ও ফাঙ্গাল সংক্রমণ প্রতিরোধ করুন
গরমে ঘাম বেশি হওয়ায় পায়ে দুর্গন্ধ এবং ফাঙ্গাল সংক্রমণের প্রবণতা বাড়ে। প্রতিদিন পা পরিষ্কার রাখা, পরিষ্কার ও বাতাস চলাচলযোগ্য মোজা ব্যবহার করা জরুরি। তুলা, বাঁশ বা হেম্পের তৈরি মোজা ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। প্রয়োজনে ফুট পাউডার বা অ্যান্টিফাঙ্গাল স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। সুইমিং পুল বা পাবলিক বাথরুম ব্যবহারের সময় স্যান্ডেল পরলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
গরমে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা বা হাঁটাহাঁটি করলে পা ফুলে যাওয়া ও ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। এজন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা খুব জরুরি। সুযোগ পেলেই পা কিছু সময় উঁচু করে রাখুন, এতে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং ফোলা কমে। এছাড়া ঠান্ডা পানিতে পা ভিজিয়ে রাখা বা হালকা ম্যাসাজ করলে ক্লান্তি দূর হয় এবং আরাম পাওয়া যায়।
গ্রীষ্মকালে সামান্য সচেতনতা ও নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে পা রাখা যায় সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক। কোনো ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, ফোলা বা অস্বাভাবিক সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। সঠিক যত্নে আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ হবে আরও আত্মবিশ্বাসী ও স্বস্তিদায়ক। গরমে নিজের পায়ের যত্ন নিন—কারণ সুস্থ পা-ই আপনার চলার শক্তি।
সূত্র: স্পেকটার্ম হেলথ