বিগত সরকারের আমলে পরিসংখ্যান নিয়ে একটি কল্পিত বাস্তবতা তৈরি করে প্রকৃত চিত্র ঢেকে রাখার চেষ্টা হয়েছিল। তথ্য যতই অস্বস্তিকর হোক না কেনো, পরিস্থিতির গুণগত পরিবর্তনের জন্য আমাদের সত্যকে গ্রহণ করতে হবে। তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহমান সাকি।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আয়োজিত অর্থনৈতিক শুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্যের স্বচ্ছতায় পরিসংখ্যান ও বাস্তবতার মধ্যে যে পার্থক্য তৈরি হয়েছিল, সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে হবে। তথ্য যদি অস্বস্তিকর হয়, তা আমাদের জানতে হবে। তথ্য গোপন করে উন্নয়ন সম্ভব নয়।
শুমারির সময়কালের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের তথ্য ২০২৬ এ এসে জানানোয় সময়ের একটি বড় ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। তথ্যের এই গ্যাপ কমাতে ১০ বছরের পরিবর্তে আরও কম সময়ে শুমারি করার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। এবারের রিপোর্টে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা বাড়লেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এদের সুরক্ষা দেওয়া সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে আছে। আমাদের কেবল রপ্তানির ওপর নির্ভর না করে অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করতে হবে। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প নিবন্ধনের জটিলতা কমিয়ে উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রতিমন্ত্রী।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ইনহেরিট করেছি। এখন আমাদের লক্ষ্য কেবল বড় স্থাপনা তৈরি করা নয়, বরং এমন এক বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি দাঁড় করানো,যেখানে প্রতিটি মানুষের জীবনে সত্যিকার উন্নতি আসবে। এজন্য সঠিক তথ্য পেতে বিবিএসকে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পেশাদার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। যাতে দেশের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া সম্ভব হয়।