ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নিশ্চিন্তা বাজার এলাকায় অবস্থিত ওমর ফিলিং স্টেশনকে ঘিরে তেল সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছে। এক রাতেই ৫ হাজার লিটার তেল শেষ হওয়ার বিষয়টি রহস্যময় বলে গুঞ্জন উঠেছে। তবে পাম্পের স্বত্বাধিকারী মোঃ ওমর হোসেন তালুকদার জানিয়েছেন ডিজেল সংক্রান্ত সরকারি কোনো নির্দেশনা না থাকায় রাতের মধ্যেই সব ডিজেল বিক্রি হয়ে যায়।
জানা গেছে, গত ১৬ (এপ্রিল) বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার সময় পাম্পটিতে ৫ হাজার লিটার অকটেন ও ৫ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হয়, যা পরদিন ১৭ (এপ্রিল) সকাল থেকে বিক্রির কথা ছিল।
১৭ (এপ্রিল) শুক্রবার সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৭টা থেকে দীর্ঘ লাইনের মাধ্যমে অকটেন বিক্রি হচ্ছে তবে ডিজেল বিক্রির কোনো দৃশ্য চোখে পড়েনি। এতে করে ডিজেলচালিত যানবাহনের চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিলের ৫ টা পর্যন্ত চলে অকটেন বিক্রয়। ওই দিনের বরাদ্দ অনুয়ায়ী বিক্রয় শেষে মজুদ কতো রয়েছে তা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বলতে পারেননি দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার।
তবে ১৮ (এপ্রিল) শনিবার সকালে অবশিষ্ট মজুদকৃত অকটেন বিক্রয় করা হলেও ডিজেল নিতে পাম্পে ভিড় জমালে কর্তৃপক্ষ জানায়, আগের রাতেই পুরো ৫ হাজার লিটার ডিজেল শেষ হয়ে যায়। এক রাতের মধ্যে এত পরিমাণ ডিজেল বিক্রি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি অনেকের কাছেই রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, রাতে পাম্পে এত সংখ্যক ডিজেলচালিত যানবাহনের উপস্থিতি সাধারণত দেখা যায় না। ফলে তারা ধারণা করছেন, পাম্পে কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ডিজেল বিক্রি করা হয়েছে।
ট্রাক চালক আমিরুল ইসলাম, পিক-আপ চালক জাহিদুলসহ বেশ কয়েকজন গাড়ি চালক জানান, সকালে পাম্পে এসে ডিজেল পাইনি, শুনতেছি রাতেই সব ডিজেল শেষ হয়েছে। ৫ হাজার লিটার তেল তো অনেক এতো তারাতাড়ি কিভাবে শেষ হয়। আমরা এখন তেল ছাড়া কিভাবে চলবো।
এ বিষয়ে পাম্পের স্বত্বাধিকারী মোঃ ওমর হোসেন তালুকদার জানান, ১৬ এপ্রিল রাত ৮ টার দিকে পাম্পে ৫ হাজার লিটার অকটেন ও ৫ হাজার লিটার ডিজেল পৌঁছায়। তবে ডিজেল সংক্রান্ত সরকারি কোনো নির্দেশনা না থাকায় রাতের মধ্যেই সব ডিজেল বিক্রি হয়ে যায়।
৫ হাজার লিটার তেল বিক্রির রশিদ সংরক্ষণ আছে কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যা আমাদের কাছে সিসি টিভি ফুটেজ ও রশিদ সংরক্ষণ আছে।
অন্যদিকে, পাম্পে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার গ্রাম আদালতের কো-অর্ডিনেটর দুর্লভ জানান, শুক্রবার দিনের বেলায় শুধুমাত্র অকটেন বিক্রি হয়েছে, ডিজেল নয়। তিনি বলেন, “আমি সন্ধ্যার দিকে ডিউটি শেষ করে চলে আসি। তখনও ডিজেল মজুদ ছিল। পরে পাম্প মালিক ডিজেল বিক্রি করেছেন বলে জেনেছি। আমি তাদের কাছে হিসাব চেয়েছি—তারা সিসিটিভি ফুটেজ ও বিক্রির হিসাব থাকার কথা বলেছে। তবে এক রাতে ৫ হাজার লিটার ডিজেল বিক্রি হওয়াটা আমার কাছেও অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় মেমো ও রশিদ যাচাই করা হবে। সঠিক হিসাব দিতে না পারলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিনি আরো বলেন, অল্প সময়ে এত পরিমাণ ডিজেল বিক্রি হওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক নয়।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতনমহল দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।