আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে ঘোষিত এই তালিকায় জায়গা পাননি দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত নেতা।
ঘোষিত তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমানের নাম নেই। বাদ পড়েছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী সোহেল ও সদ্য মনোনীত যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবীরও।
দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় নেই। তার নির্বাচনী এলাকা চুয়াডাঙ্গা-১ থেকে এবার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে মো. শরীফুজ্জামানের নাম।
তালিকায় নেই বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও আমিনুর রশীদ ইয়াসিনের নামও। ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপনও বাদ পড়েছেন।
একাদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার নাম নিয়েও জল্পনা ছিল, তবে ঘোষিত তালিকায় তার নামও পাওয়া যায়নি। ঢাকা-১০ আসন থেকে একসময় প্রার্থী হওয়া আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন অসীম ও রবিউল ইসলাম রবিও এবার বাদ পড়েছেন।
এছাড়া মাগুরা থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নামও নেই তালিকায়।
দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, এবারের প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপি “এক পরিবার, এক প্রার্থী” নীতি অনুসরণ করেছে। তাই অনেক সিনিয়র নেতার পরিবারের সদস্যরাও মনোনয়ন পাননি। এর মধ্যে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমদ, মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস এবং সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদ, যিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী।
তবে কিছু ক্ষেত্রে সিনিয়র নেতাদের পরিবর্তে তাদের উত্তরসূরিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “এটি সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা। চূড়ান্ত নয়। যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে কিংবা পার্লামেন্টারি বোর্ড ও স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে কিছু আসনে পরিবর্তন আনা হতে পারে। তবে এটিই আমাদের সবচেয়ে উপযুক্ত প্রাথমিক তালিকা।”