আওয়ামী লীগের শেষ ১০ বছরে অফিসিয়ালি-আনঅফিসিয়ালি কমপক্ষে ৫০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।
শনিবার (২ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিভিন্ন সহায়তা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন দাবি করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের শেষ ১০ বছরে অফিসিয়ালি-আনঅফিসিয়ালি কমপক্ষে ৫০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতা ছেড়ে চলে যায়, তখন সরকারের কোষাগার ছিল সম্পূর্ণ শূন্য। পরবর্তী সময়ে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ১৮ মাস একেবারেই দারিদ্রের মতো সরকার চালিয়ে গেছেন। আমরা যখন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি, তখন সরকারের কোনো পর্যায়েই কিছুই নেই অবস্থা ছিল।
তিনি বলেন, আমাদের সরকার একেবারে শূন্য হাতে যাত্রা শুরু করেছে। মাত্র আড়াই মাসে আমাদের প্রধানমন্ত্রী অনেকগুলো কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে কৃষি ঋণ সুদে আসলে মওকুফসহ আরও অনেক প্রকল্প শুরু করে দিয়েছেন।
আহমেদ আযম খান বলেন, আমি নিজে প্রত্যক্ষ করেছি, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ মারা যায়। দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা তখন মন্তব্য করেছিলেন, কমবেশি ৫০ হাজার মানুষ সেই ৭৪-৭৫ এর দুর্ভিক্ষে মারা গেছে। ওই দুর্ভিক্ষের সময় মানুষ-কুকুরে একসাথে খাবার খেয়েছে ডাস্টবিন থেকে তুলে এনে। সেই দুর্ভিক্ষের সময় মানুষ মারা গেলে কাফনের কাপড় পাওয়া যায়নি। কলাপাতা দিয়ে তখন কবর দিয়েছে। সেই দুর্ভিক্ষের পরপরই যখন জিয়াউর রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তখন দেখেছি আমূল পরিবর্তন হতে। একেবারে তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ থেকে একটা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ জিয়াউর রহমানের শাসন আমলে দেখেছি।
অনুষ্ঠানে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিবি) আওতায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ, ১৬ জন বেকার নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন, বিভিন্ন ইউনিয়নে দরিদ্র ১০টি পরিবারের মাঝে টিউবওয়েল, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৩০ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী, ৩০ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ, ১৮ জন দরিদ্র মহিলার মাঝে গবাদি পশু ও ১৫ জন প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়।
এতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রনীর সভাপতিত্বে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনসুর আহমেদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন মাস্টার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম মাস্টারসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।