চীন-বাংলাদেশ বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত, ডিসিসিআইয়ের সঙ্গে সমঝোতা
Reporter Name
/ ২১
Time View
Update :
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
Share
বাংলাদেশ ও চীনের উদ্যোক্তাদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং চীনের তিনটি শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনের মধ্যে সহযোগিতা স্মারক (সমঝোতা স্মারক) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
আজ শনিবার চীনের গুয়াংডং প্রদেশে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
চীনের পক্ষে স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলো হলো গুয়াংডং চেম্বার অব কমার্স অব ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স (জিসিসিআইই) চায়না চেম্বার অব কমার্স ফর ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অব মেশিনারি অ্যান্ড ইলেকট্রনিক প্রোডাক্টস (সিসিসিআইইএমইপি) এবং গুয়াংঝো চেম্বার অব কমার্স ফর আউটবাউন্ড বিজনেস (জিসিসিওবি)।
ডিসিসিআইয়ের পক্ষে ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট চেম্বারগুলোর প্রতিনিধিরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।চুক্তির আওতায় বাণিজ্যিক তথ্য বিনিময়, যৌথ উদ্যোগ গঠন, বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদারে কাজ করা হবে।
একই দিনে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল ক্যান্টন ফেযারের ১৩৯তম আসরের ‘ট্রেড ব্রিজ-বাংলাদেশ ম্যাচমেকিং’ ইভেন্টে অংশ নেয়। সেখানে প্রায় ২৭০টি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করে সম্ভাব্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে চীন অন্যতম প্রধান শক্তি এবং বাংলাদেশের আমদানির বড় অংশই এ দেশ থেকে আসে। গত অর্থবছরে চীন থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পাশাপাশি বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ প্রায় ১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশটিকে অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তিনি বলেন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে দুই দেশের যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
একই সঙ্গে স্টার্টআপ, আর্থিক প্রযুক্তি (ফিনটেক), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স ও জীবপ্রযুক্তি খাতেও সহযোগিতার সুযোগ বাড়ছে।এ সময় চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রোমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এর পরিচালক কিউ বলেন, নানশা অঞ্চল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং শিল্প ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়নে দ্রুত এগোচ্ছে। অটোমোবাইল, জাহাজ নির্মাণ ও বায়োমেডিসিন খাতে যৌথ উদ্যোগের সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে উ শাওওয়েই বলেন, গুয়াংডংয়ে উৎপাদিত পণ্য দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে প্রবেশে বাংলাদেশ কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি।
শি ইয়ংহং বলেন, ক্যান্টন ফেয়ার বৈশ্বিক উদ্যোক্তাদের সংযোগ স্থাপনের অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য এটি চীনের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তি স্থানান্তর ও শিল্পায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।