সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ ৩২৯ ‘দুষ্কৃতকারীর’ ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। শনিবার সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে-পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা নগরীতে অবস্থান ও প্রবেশ করতে পারবে না।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে-‘সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে উপস্থাপন করা যাচ্ছে যে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ-১৯৭৮ এর ৪০, ৪১ ও ৪৩ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা বলে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দুষ্কৃতকারীকে মহানগরী এলাকা থেকে বহিষ্কার এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত দুষ্কৃতকারী দলের সদস্যদের চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় প্রবেশ এবং অবস্থান নিষিদ্ধ করা হলো। এ আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ সিএমপির তালিকার ২২৭ নম্বরে মারা যাওয়া চসিকের সাবেক কাউন্সিলর আতাউল্লাহ চৌধুরীর নাম রাখা হয়। অবশ্য পরে তার নাম মুছে দিয়ে আরেকটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। এ তালিকায় রাষ্ট্রদ্রোহ ও আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় কারাবন্দি ইসকনের সাবেক সংগঠক চন্দন কুমার ধর ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নাম রয়েছে।
তালিকার উল্লিখিত ‘দুষ্কৃতকারীদের’ মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন-কার্যক্রম নিষিদ্ধ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক সংসদ-সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী, এমএ লতিফ, নোমান আল মাহমুদ ও মোহাম্মদ মহিউদ্দীন বাচ্চু। তাদের মধ্যে ফজলে করিম ও লতিফ বর্তমানে কারাগারে আছেন। তালিকায় চসিকের সাবেক কাউন্সিলরদের মধ্যে মোহাম্মদ হোসেন হিরণ, আব্দুল কাদের ওরফে মাছ কাদের, নুর মোস্তফা টিনু, শৈবাল দাশ সুমন, গাজী শফিউল আজম, মো. শাহেদ ইকবাল বাবু, শফিকুল ইসলাম, এসরারুল হক, মোহাম্মদ কাজী নুরুল আমিন, এম আশরাফুল আলম, মোবারক আলী, মোরশেদ আলম, জহরুল আলম জসিম, নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, মোহাম্মদ ইসমাইল, নুরুল আমিন, ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী, আবুল হাসনাত মো. বেলাল, মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শহিদুল আলম, হাজী মো. হারুন উর রশীদ, নূরুল আলম, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, মোহাম্মদ সলিম উল্ল্যাহ, মোহাম্মদ জাবেদ, নাজমুল হক ডিউক, আব্দুস সবুর লিটন, মো. ইলিয়াছ, শেখ জাফরুল হায়দার চৌধুরী, নজরুল ইসলাম বাহাদুর, গোলাম মো. জোবায়ের, আতাউল্লা চৌধুরী, আবদুস সালাম, জহরলাল হাজারী, হাসান মুরাদ বিপ্লব, পুলক খাস্তগীর, হাজী নুরুল হক, মোর্শেদ আলী, মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী, জিয়াউল হক সুমন, আবদুল বারেক, আসলাম ওরফে ডাকাত আসলাম ও ছালেহ আহম্মদ চৌধুরীর নাম রয়েছে। বাকিদের অধিকাংশ পলাতক।
তালিকায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে নাম রয়েছে-খলিলুর রহমান নাহিদ, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, দেবাশীষ পাল দেবু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মশিউর রহমান দিদার, নুরুল আজিম রনি, সাইফুল আলম লিমন, জহির উদ্দিন বাবর, নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও জাকারিয়া দস্তগীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সামদানি জনি, সুভাষ মল্লিক সবুজ ও এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর ছেলে ফারাজ করিমের। জুলাই আন্দোলনের সময় প্রকাশ্য অস্ত্র নিয়ে হামলা করা সোলায়মান বাদশা, মো. দেলোয়ার, মোহাম্মদ ফিরোজ, এইচএম মিঠু, ছাত্রলীগ নেতা ও কিশোর গ্যাং লিডার সাদ্দাম হোসেন ইভান, কারাগারে থাকা সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্নার নামও আছে তালিকায়। এছাড়া সাবেক ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম ওরফে বার্মা সাইফুলের নাম তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি তিনি গ্রেফতার হয়েছেন। এর আগে ১১ নভেম্বর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারের নির্দেশ দিয়েছিলেন কমিশনার হাসিব আজিজ। ওই দিন বেতার বার্তায় থানা ও টহল পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শটগান হবে না, চায়না রাইফেলও বাদ, এখন এসএমজি ব্রাশফায়ার মুডে থাকবে।’ সহকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সব দায় নিজে বহন করবেন। গত বছরের ১৩ আগস্ট সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ অস্ত্রধারীদের দেখামাত্র গুলি করার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় বন্দর থানার এক এসআই গুরুতর আহত হওয়ার পর তিনি ওয়্যারলেসে এ নির্দেশ দেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এর ভিডিওতে কমিশনারকে বলতে শোনা যায়, ‘শুধু রাবার বুলেট দিয়ে কাজ হচ্ছে না, অস্ত্র বের করা মাত্র গুলি করতে হবে। পুলিশের কোনো টহল দলের সামনে কেউ ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র বের করলে সঙ্গে সঙ্গে গুলি চালাতে হবে। এ বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।’ সর্বশেষ শনিবার দেওয়া গণবিজ্ঞপ্তিতে তিনি সাবেক মেয়র, চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীদের চট্টগ্রাম নগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন।