পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে কমিটি বিলুপ্তির খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে মামুনের পক্ষে বিএনপির একাংশ সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেছে। নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণের সময় বলেন, আমরা এখন মুক্ত। মামুন ভাইকে ১২ তারিখ বিজয় করে এই আসন তারেক রহমানকে উপহার দিব।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ১০টায় পৌর শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে উৎসুক নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা যায়।
উল্লেখ্য, শনিবার গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনের কাছে পাঠানো হয় এবং তা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি নিজস্ব কোনো প্রার্থী না দিয়ে ভিপি নুরকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে সব নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা থাকলেও গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির একটি অংশ তা বাস্তবায়নে অনীহা দেখায়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই অংশটি সাংগঠনিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকার পাশাপাশি সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে এলে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
এদিকে দলীয় সূত্র জানায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় থেকে ডাকা হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি।
গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, যে দলের নেতা বহিষ্কৃত হয় সেখানে কর্মীরাও বহিষ্কৃত হবে এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বরং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে দেরি হয়েছে। তিনি আরও জানান, তাদের অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগ নেই এবং তারা হাসান মামুনের সঙ্গেই রয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন জানান, দুই উপজেলা বিএনপির সব কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার বিষয়ে তারা অবগত রয়েছেন এবং ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক কাগজ হাতে পেয়েছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।