সংসদ-সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধাসংক্রান্ত ধারা বিলুপ্ত করে জাতীয় সংসদে বিল পাশ হয়েছে। রোববার জাতীয় সংসদে ‘দ্য মেম্বারস অব পার্লামেন্ট (রেমুনিউরেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার ১৯৭৩ সংশোধন বিল পাশ হয়। এদিন জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ-সদস্যদের নিয়ে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
সংসদ-সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিলের বিলটি আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান পাশের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। বিলটির ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব ছিল না। কোনো আলোচনা ছাড়াই বিলটি সংসদে পাশ হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আইনটির সংশোধনী অনুমোদন করা হয়।
বিল পাশের মাধ্যমে বিদ্যমান আইনের ৩(গ) ধারা বিলুপ্ত করা হয়েছে। এ ধারায় বলাছিল, একজন সদস্য তার পুরো মেয়াদকালে শুল্কমুক্তভাবে, উন্নয়ন সারচার্জ এবং আমদানি পারমিট ফি ব্যতীত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিবরণ ও শর্ত অনুযায়ী একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করার অধিকারী হবেন। সর্বশেষ আমদানির তারিখ থেকে পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর আরেকটি নতুন গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করার অধিকারী হবেন।
আইনমন্ত্রী বিলটি উত্থাপনের উদ্দেশ্য ও কারণ হিসাবে বলেন, জনগণের সেবা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ-সদস্যদের নিজের নামে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি একদিকে যেমন নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, অন্যদিকে তেমনি এ ধরনের শুল্কমুক্ত সুবিধা কর প্রদানের ক্ষেত্রে দেশের মালিক জনগণের সাথে দৃশ্যমান বৈষম্য তৈরি করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ নেতার দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের জন্য বিদ্যমান শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের সাথে সাম্য প্রতিষ্ঠাকল্পে উক্ত সুবিধা বাতিল করার জন্য ওই ধারা বাতিল করতে বিলটি আনা হলো।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারে সরকারি দল ও বিরোধী দল বলেছিল তারা কেউ শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবেন না। ভোটের পরে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রথম সংসদীয় দলের বৈঠকে এ শুল্কমুক্ত গাড়ি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্যদিকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে শুল্কমুক্ত গাড়ি না নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি প্লটও নেবে না বলে ভোটের আগে জানানো হয়।
বিশেষ কমিটি গঠন : বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে সুপারিশ দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সংসদ। গত বৃহস্পতিবার বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবে এই গঠনের বিষয়ে একমত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেদিনই সরকারি দল ও বিরোধী দল ৫ জন করে ১০ সদস্যের নাম প্রস্তাব করে।
রোববার সংসদে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। পরে প্রস্তাবটি সংসদে পাশ হয়। এই কমিটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ দিন।
কমিটিতে সদস্য হিসাবে আছেন, জ্বালানীমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, সরকারি দলের সদস্য মঈনুল ইসলাম খান, বিরোধী দলের সদস্যরা হলেন সাইফুল আলম, নুরুল ইসলাম, মো. আব্দুল বাতেন, আবুল হাসনাত ও মোহাম্মদ আবুল হাসান। কমিটির সভাপতি ইকবাল হাসান মাহমুদ।