ফরিদপুরে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে শনিবার সকাল ১১টায় জেলা সিভিল সার্জন অফিসের আয়োজনে সদর হাসপাতালের মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান।
সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন জানান, সারা দেশে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে হাম ও রুবেলা রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় শিশুদের এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে।
তিনি আরও জানান, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী এ ক্যাম্পেইন চলবে। ফরিদপুর জেলায় মোট ২ হাজার ৬৯৩টি টিকাদান কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকা প্রদান করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পূর্বে টিকাগ্রহণ করলেও ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রতিটি শিশু এই ক্যাম্পেইনে অতিরিক্ত এক ডোজ টিকা পাবে। নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমে ৯ ও ১৫ মাস বয়সে টিকা দেওয়া হলেও এই অতিরিক্ত ডোজ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও বাড়াবে। তবে দুটি ডোজের মধ্যে নূন্যতম ২৮ দিনের ব্যবধান বজায় রাখতে হবে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ক্যাম্পেইন সফল করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে এবং মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে ইমাম ও সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
জেলায় মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৫ জন শিশু। এর মধ্যে ৯টি উপজেলা, ৭৯টি ইউনিয়ন, ২৩৭টি ওয়ার্ড এবং ফরিদপুর পৌরসভার ২৭টি ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। টিকাদান কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে স্থায়ী ইপিআই কেন্দ্র ৭৩৮টি, অতিরিক্ত কেন্দ্র ১০টি, ইপিআই টিকাদান কেন্দ্র ১৪টি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৯৩১টি কেন্দ্র; সর্বমোট ২ হাজার ৬৯৩টি কেন্দ্র।
সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, এই ক্যাম্পেইন সফল করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপপ্রচার রোধ করে আমরা একটি হাম-রুবেলা মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।
তিনি সাংবাদিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।