বার্সেলোনাকে ব্ল্যাক মেইল করতে চেয়েছিল লা লিগা!!

মেসির দলবদলের গল্পে ‘দাড়ি’ পড়ে গেছে এক মাস হয়ে গেল। বার্সেলোনা–সমর্থকদের শোকাহত করে তোলা সে দলবদলে লিওনেল মেসি পিএসজির হয়ে গেছেন। এরই মধ্যে প্যারিসের জার্সিতে নেমে ফরাসি ফুটবলের স্বাদও নেওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু মেসির দলবদলের আলোচনা শেষ হচ্ছে না। কেন মেসিকে ধরে রাখতে পারেনি বার্সেলোনা, দলবদলের শেষ পর্যন্ত কেন অপেক্ষা করল না দলটি, সে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো খুঁজে বেড়াচ্ছেন অনেক।

দলবদলের মৌসুম শেষ হয়েছে এক সপ্তাহ হলো। এরপরও অবশ্য ব্যস্ত ছিল বার্সেলোনা। দলে অপ্রয়োজনীয় ঠেকা মিরালিম পিয়ানিচকে তুর্কি লিগে পাঠিয়ে দিয়েছে তারা। এরপরই বার্সেলোনার সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা বার্সেলোনার আর্থিক সমস্যা ও মেসিকে ধরে রাখতে না পারার প্রসঙ্গে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আর সেখানে লা লিগার দিকে তির ছুড়েছেন। বলেছেন, মেসি ইস্যুতে বার্সেলোনাকে ব্ল্যাকমেল করতে চেয়েছিল লা লিগা।

মার্চের সভাপতি নির্বাচনে নিরঙ্কুশ প্রাধান্য দেখিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন লাপোর্তা। তাঁর বিজয়ের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল মেসির। বার্সেলোনার দুঃসময় কাটাতে লাপোর্তাকেই পছন্দ ছিল মেসির। ওদিকে লাপোর্তাও কথা দিয়েছিলেন, যেকোনোভাবেই হোক মেসিকে ধরে রাখবেন। অন্য প্রার্থীরা আর্থিক সমস্যার কথা ভেবে মেসির ব্যাপারে এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারছিলেন না। কিন্তু লাপোর্তা এ ব্যাপারে রীতিমতো নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন, মেসিকে কেউ ধরে রাখলে তিনিই রাখবেন।

কিন্তু লাপোর্তা সে কথা রাখতে পারেননি। এর পেছনে লা লিগার কড়া নিয়মের কথা বলেছেন। সে সঙ্গে লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাসের সঙ্গে দুই বড় ক্লাব বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের চলা ঝামেলাটাও যে প্রভাব ফেলেছে, সেটাও জানালেন লাপোর্তা। ইস্পোর্তকে বলেছেন তাঁকে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। লা লিগা সিভিসির সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছে। এতে রিয়াল ও বার্সার আর্থিক ক্ষতি হবে বলে এ দুই দল তাতে রাজি ছিল না। লা লিগা তাই লাপোর্তাকে একটি অন্যায় প্রস্তাব দিয়েছিল।

লা লিগা নাকি বলেছিল, নিয়ম ভেঙে মেসির বেতনের ব্যাপারটা মেনে নেবে তারা, যদি বার্সেলোনা সিভিসির চুক্তিতে সই করতে রাজি হয়। কিন্তু বার্সেলোনা সেটা মানেনি। রিয়াল ও অ্যাথলেটিক বিলবাওর মতো তারাও ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকারক এই চুক্তিতে রাজি হয়নি। লাপোর্তা বলছেন, তাই প্রতিশোধ নিতেই আগে অনুমতি মিললেও পরে মেসির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত বদলেছে লা লিগা, ‘যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, সেটাই ঘটেছে। এটাই মূল তথ্য। সবাই চাইলে তুলনা করে দেখতে পারে। আমাদের চাপ দেওয়া হয়েছিল, হয় সিভিসি চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে, নয়তো কোনো ফেয়ার প্লে দেওয়া হবে না।’

এত দিন আশায় রেখেও মেসিকে কেন নতুন চুক্তিতে বাধা যায়নি, তার ব্যাখ্যায় লাপোর্তা বলেছেন, ‘কোনো সুযোগই ছিল না।। আগে থেকেই সব ঠিক করা ছিল, আমরা হাত মিলিয়ে রেখেছি। আমাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি করা হয়েছিল এবং লা লিগা সেগুলো মেনেও নিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ তারা বলল সিভিসি ছাড়া তারা রাজি না। আমাদের মনে হয়নি এ পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে এবং থামিয়ে দিয়েছি (মেসির চুক্তির কাজ)।’

মেসিকে অন্য জার্সিতে মানতে পারছেন না লাপোর্তা
মেসিকে অন্য জার্সিতে মানতে পারছেন না লাপোর্তা; ছবি: টুইটার

মেসির বিদায়ের পরও বার্সেলোনার আর্থিক অবস্থায় খুব একটা উন্নতি হয়নি। দলবদলের শেষ দিকে তাই ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়েছে লাপোর্তাকে। একের পর এক খেলোয়াড়কে বিক্রি করে বা ধারে পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ক্লাবে মেসির পর সবচেয়ে বেতন পাওয়া গ্রিজমানকেও ধারে পাঠানো হয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদে। এরপরই অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, এই দলবদলগুলো যদি করাই হলো, তাহলে সেগুলো আগে করে মেসিকে ধরে রাখা হলো না কেন। লাপোর্তা বলেছেন, ‘এসব করেও মেসিকে ধরে রাখা যেত না, দলের অধিনায়কদের বেতন কমানো এবং গ্রিজমানের বিদায়ের পরও মেসিকে রাখা যেত না। কিন্তু আমাদের বেতন কমানোটা জরুরি ছিল যাতে আগামী বছর একটু উচ্চাভিলাষী হওয়া যায় (খেলোয়াড় কেনার ব্যাপারে)।’

মেসি-বার্সেলোনা অধ্যায় এখন অতীতে। কিন্তু মেসিকে হাতছাড়া করার ব্যাপারটা এখনো মেনে নিতে পারছেন না লাপোর্তা, ‘আমার ধারণা আমরা দুই পক্ষই (বার্সেলোনা ও মেসি) দুই পক্ষই এতে কষ্ট পেয়েছি, কারণ এটা আমরা কেউ চাইনি। এ ঘটনার পর মেসির সঙ্গে আমার আর কথা হয়নি। পিএসজির হয়ে ওর অভিষেক দেখেছি এবং ওকে অন্য দলে দেখা খুবই অদ্ভুত। অন্য দলের জার্সিতে ওকে দেখে ভালো লাগেনি।’

শেয়ার করুন