বাংলাদেশী গৃহকর্মীকে হত্যার দায়ে সৌদির গৃহবধূর মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিল আদালত

অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশি আবিরন নামের এক গৃহকর্মীকে হত্যার দায়ে সৌদির এক গৃহবধূকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছে সৌদিআরবের একটি আদালত। আর তাকে সহযোগীতা করার জন্য তার স্বামী ও শিশুকে কারাদন্ডের সাজা দিয়েছেন সেই দেশের আদালত।

সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রিয়াদ ফৌজদারি আদালত রায় প্রদানের কথা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছে।

উক্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আদালত এই মামলার মূল আসামি গৃহবধূ আয়েশা আল জিজানীকে তার গৃহকর্মীকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করার জন্য এই রায় ঘোষণা করেছে। মামলার অপর দুই আসামির মধ্যে একজন আয়েশার স্বামী ও আবিরনের চাকুরীজীবি বাসেম সেলামকে হত্যার প্রমাণ নষ্ট করার, অবৈধভাবে বাড়ির বাইরে কাজ করতে পাঠানো এবং পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে তিন বছর এবং দুই মাসের কারাদন্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

তার চিকিত্সা করার জন্য উক্ত পরিবারকে ৫০,০০০ সৌদি রিয়ালের জরিমানাও দেওয়া হয়েছে এবং মামলার ৩য় আসামী মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত গৃহবধূর শিশু ওয়ালিদ বাসেদ সালামকে যুব সংশোধন কেন্দ্রে সাত মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

যদিও হত্যার সাথে ওয়ালিদের জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় নি, বিচারকের আদেশ অনুসারে তিনি আবিরনের সাথে বিভিন্ন ধরনের অসহযোগে লিপ্ত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান জানিয়েছেন, খুলনার পাইগাছার আদিবাসী আবিরন বেগম ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব ভ্রমণ করেছিলেন। ২০১৪ সালের ২৪ শে মার্চ তাকে হত্যা করা হয়েছিল।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এবং ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের সহায়তায় তার দেহ ২৪ অক্টোবর, ২০১৯ এ দেশে ফিরে এসেছিল।

তার মৃত্যু প্রশংসাপত্র “মৃত্যুর কারণ” বিভাগে “হত্যা” বলে উল্লেখ করেছে। শরিফুল বলেন, মানবাধিকার কমিশন তার হত্যার তদন্তে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেছিল।

গত বছরের ১ ডিসেম্বর এই মামলার প্রথম সরকারী শুনানির প্রায় দুই মাস পরে রায় দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন