দিনাজপুরে হঠাৎ বেড়েছে ধানের দাম।

মোকছেদুল মমিন মোয়াজ্জেম, হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ  এক সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরে ধানের দাম হঠাৎ মণপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেড়েছে।
ধান ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে চাল আমদানি না হওয়াই ধানের দাম বাড়ার কারণ। অন্যদিকে ধানের দাম বাড়লেও চালের দাম না বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন মিল ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার (১৫ জুন) জেলার বিভিন্ন উপজেলার ধান আড়ৎ ঘুরে জানা যায়, এক সপ্তাহ আগের চেয়ে ধানের বর্তমান দাম মণে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেশি। ৬ থেকে ৭ দিন আগে হাইব্রিড, ২৯ জাতের মোটা ধানের দাম ছিলো ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা, বর্তমান সেই মোটা ধান আড়তে বিক্রি হচ্ছে ১০৫০ টাকা।  আবার মিনিগেট চিকন জাতের ধানের দাম ছিলো ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা, আজ সেই ধান বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ টাকা।
এদিকে চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, চালের দাম তেমন বৃদ্ধি পায়নি, প্রায় সাবেক দামই রয়েছে।
হিলির আড়ৎদার ধান ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়া বলেন, ধানের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে। ধানের তেমন কোন আমদানি নেই। গৃহস্থদের মাঠে ইরি ধান আর নেই, কাটা-মাড়াই শেষ। এছাড়াও আগে ভাগেই সব ধান বিক্রি করে ফেলেছে। সারাদিন বসে থাকি, দুই চার মণ যা ধান পাই তাই কেনাকাটা করি। মোটা ধান ১০৩০ টাকা দরে কিনে তা ১০৫০ মণ বিক্রি করছি। আবার মিনিগেট ধান ১১৩০ টাকা দরে কিনে ১১৫০ টাকা দরে বিক্রি করছি।
দিনাজপুর সদরের ধানের আড়ৎদার হামিদ মন্ডল বলেন, আমাদের এখানে ধানের আমদানি পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে, কোন কমতি নেই। তবে বর্তমানে ভারত থেকে চাল আমদানি হচ্ছে না, তাই এক সপ্তাহ ধরে ধানের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি শুধু মিনিগেট জাতের ধান ক্রয়-বিক্রয় করে থাকি। ১১০০ টাকার উপরে ক্রয় করে তা প্রায় ১১৫০ টাকা দরে বিক্রি করছি।
তিনি আরও জানান, ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হলে ধানের দাম আবারও হঠাৎ করে কমে যাবে।
হিলির মিল ব্যবসায়ী দ্বীপ্ত সরকার বলেন, বর্তমান আমি চাল নিয়ে বিপাকে পড়ে আছি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ধানের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। কিন্তু চালের দাম বৃদ্ধি পায়নি, আবার বাজারে চাহিদা নেই চালের। বেশি দামে ধান কিনে, তা সিদ্ধ-শুকানো শেষ করে মিলে ভেঙে বস্তা করে রেখেছি।  বাজারে দামও নেই, চাহিদাও নেই, সব টাকা বস্তার মধ্যে আটকে আছে।

শেয়ার করুন