ক্রিস্টিয়ানো তিতাস ঘোষ কয়েকটা জেলায় প্রতারণার ফাঁদ পেতে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা

এম.আমিরুল ইসলাম(জিবন)স্টাক রিপোর্টারঃ
দক্ষিণ অঞ্চলে অবৈধ এমএলএম কোম্পানি নিয়ে নাড়াচাড়া করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ক্রিস্টিয়ানো তিতাস ঘোষ(৩০) নামে এই যুবক।
প্রতারণা তাও আবার কি,কোন রকম প্রমান না রেখেই ফাদে ফেলে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকা। প্রমান না রাখার ফলে ভুক্তোভোগীরা ধরা তার কাছে। যেতে পারে না প্রশাসনের নিকট, বাঁধা একটাই, প্রমান কি?
প্রতারক ক্রিস্টিয়ানো তিতাস ঘোষ, খুলনা জেলার দাকোপ থানাধীন, চুনকুড়ি গ্রামের বিনয় ঘোষের বড় ছেলে। শিক্ষিত হলেও পেশা তার লোক ঠকানো। আর লোক ঠকানোর অস্ত্র হিসাবে ব্যাবহার করে বাংলাদেশের আইনে অবৈধ বিভিন্ন এমএলএম বা পিরামিড আকৃতির ব্যাবসায়কে। কখনো অনলাইন এমএলএম আবার কখনো প্রাতিষ্ঠানিক। আবার কখনো করে অনলাইন গেম্বলিং(জুয়া খেলা)।
ঠকানোর উদ্দেশ্য করে টার্গেট করে কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী এবং বিত্তশালী মানুষদের।
কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের অফার করে অল্প সময়ে কিভাবে ৭ দিনে ৩ লক্ষ টাকা, আবার ৬ মাসে ১ কোটি টাকা ইনকাম করা যায়। আবার উদাহরণ হিসাবে নিজের অনলাইন ভুয়া ওয়ালেট দেখান তিনি। আবার বিত্তশালীদের অফার করে রিটায়ার্ড হওয়া টাকা রেখে সল্প সময়ে কিভাবে দীগুন লাভ পাওয়া যায়। আর এই সকল টাকা বিদেশী কোম্পানিগুলোর সাথে লেনদেন ও ট্রানজেকশনে ব্যাবহার করে অবৈধ কারেন্সি বিটকয়েন,ইথেরিয়াম,গিফট কোড ইত্যাদি। যার মাধ্যমে শুধু প্রতারণা নয়,হচ্ছে মানি লন্ডারিংও।
একটা কোম্পানিতে প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার লোক নিয়োগ করিয়ে টাকা হাতিয়ে গুটিয়ে নিয়ে চলে যায় অন্য কোম্পানিতে। আর টাকা আলাদা আলাদা ব্যাক্তির কাছ থেকে নেবার সময় দেয়না কোন রিসিপ্ট কপি বা কোন দলিল পত্র। যার ফলে টাকা নিয়ে ভেগে গেলে ভুক্তভোগীর আর কিছুই করার থাকে না।
পরিচয় গোপন রেখে তার পরিচিত এক ব্যাক্তি বলেন, তিতাস ঘোষ অনেক বছর ধরে দেশি বিদেশি এমএলএম কোম্পানিতে এই প্রতারণা করে আসছে। প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে কিভাবে এই প্রতারণা করে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি টাকা নেওয়ার সময় এমন প্রলোভন দেখায় যে গ্রাহক তার কাছে টাকা দিতে এবং তাকে অন্ধ বিশ্বাস করতে এক মুহুর্তও ভাবে না। আর তখন টাকা লেনদেনের সময় কোন চুক্তিপত্র বা ডকুমেন্ট না থাকায় কোন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের নিকট সরনাপন্ন হতে পারে না।
প্রতারনার কাজ নির্বিঘ্নে চালাতে তিনি,একাধিক মোবাইল সিম কার্ড ব্যাবহার করেন। আবার কখনো কখনো পুরোনো বেয়রিশ সিম কিনে এ ধরনের প্রতারণার কাজ করে। আবার প্রতারণার কাজে কল রেকর্ডিং এর হাত থেকে বাঁচতে হোয়াটসঅ্যাপ অডিও কল ব্যাবহার করেন। যার ফলে ভুক্তভোগীর কাছেও থাকে না কোন কল রেকডিং প্রমান। প্রতারণা এক জায়গায় বসে করলে বিপদ হতে পারে বলে তার হেডকোয়ার্টার রয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। বর্তমানে তার অবস্থান জানা যায় ঝিনাইদহ। তবে স্থায়ী ভাবে এই প্রতারক কোথায় থাকে তা নিয়ে এখনো রয়েছে ধোয়াশা। খুলনা জেলায় তার বাড়ি হলেও বাসা ভাড়া করে থাকে বিভিন্ন জেলায়।
সম্প্রতি ক্রাউড ওয়ান নামে একটি সুইডেনের কোম্পানিকে কেন্দ্র করে খুলনা বিভাগ সহ সারাদেশে ব্যাপক বিপ্লব ঘটিয়ে শত শত কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের করোনাকালীন বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে মগজ ধোলাই করে প্রলোভন দেখিয়ে তাদের পরিবারকে পথে বসিয়েছেন। অবশেষে একটি বেসরকারি টেলিভিশন মাইটিভিতে ক্রাউড ওয়ান প্রতারণার একটি সংবাদ প্রকাশ হলে ভয়ে ওই কোম্পানি ছেড়ে দিয়ে এখন অন্য কোম্পানির ফাঁদ পেতে ঘুরেবেড়াচ্ছেন তিনি।
এক ভুক্তভোগী ভয়ে নাম গোপন করা শর্তে বলেন, আমি তার কথায় বিশ্বাস করে ক্রাউড ওয়ান নামক কোম্পানিতে ১০ হাজার টাকা দেই। সেই সাথে আমার ১০ থেকে ১২ জন বন্ধুকেও সেখানে রেফার করি। আমি তো টাকার বিনিময়ে কিছুই পাইনি। অবশেষে তিতাস আমাকে অর্ধেক টাকা দিয়ে বাকি অর্ধেক টাকা অস্বীকার করে পালিয়েছে। ফোন দিলেও ফোন ধরেন না তিনি। কোথায় আছেন জিজ্ঞাসা করলে ভুল লোকেশন বলেন। আবার আইনের আশ্রয় নিবো বললে তিনি ভয় দেখিয়ে বলেন, প্রমাণ ছাড়া আমার নামে কোন অভিযোগ প্রশাসন কান দিবেন না। আমার মানহানী হলে আমি লক্ষ টাকা খরচ করবো তবুও তোমার টাকা দিবো না। প্রয়োজনে আমিও মানহানি মামলা করবো। তার ভয় দেখানো কথা শুনে দিশেহারা হয়ে পরে আমি নিজেই নিজের পকেট থেকে আমার বন্ধুদের টাকা পরিশোধ করে আজ আমি নিস্ব।
এমন ভয়ভীতি দেখিয়ে দমিয়ে রাখে ভুক্তভোগীদের।
আবার অন্যদিকে তার ব্যাবসায় সহোযোগিতা করে ডেস্টিনির কিছু সাবেক প্রতারক।
ক্রিস্টিয়ানো তিতাস ঘোষের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করতে গিয়ে বন্ধ পায় প্রতিবেদক।সবমিলিয়ে এখন এই চক্র টির নাম ভুক্তভোগীদের কাছে তিতাস চক্র হয়ে উঠেছে।
শত শত ভুক্তভোগী থাকলেও যথাযথ প্রমান না থাকার কারনে ভুক্তভোগীরা হতে পারে না প্রশাসনের স্বরনাপন্ন। দ্রুত প্রশাসনের নজরে নিয়ে এই প্রতারক এবং সম্পূর্ণ চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়ার দাবী ভুক্তোভোগীদের।

শেয়ার করুন

Bangla Somoy

Pradip Barua Joy is the Editor and Publisher of the News Portal (banglasomoy.com). He is the recognized Journalist and working in this profession about 21 years. He is the proprietor of Water Guard Bangladesh & Mam Industrial Engineering. As a online activist and online market establisher he is the well known person of our country.