করোনা ভাইরাস কি রোগ নাকি জীবানু অস্ত্র?

প্রদীপ বড়ুয়া জয়, সম্পাদক, বাংলা সময়ঃ চীনে করোনাভাইরাসের প্রকোপে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৯১০ জনে। দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুসারে, রোববার রাত পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত ছিলেন ৪০ হাজার ২৩৫। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুসারে, ২০০৩ সালের মারাত্মক ‘সার্সে’ প্রাণহানির সংখ্যাকে অনেক আগেই অতিক্রম করেছে করোনাভাইরাস।

ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হুবেই প্রদেশে মাত্র একদিনে মারা গেছে ৯৭ অধিবাসী। সবমিলিয়ে, সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৮৭১ জনে। নতুনভাবে প্রদেশটিতে সংক্রমিত হয়েছে ২৬শ’র বেশি। বলা হচ্ছে, চীনের পর মারণব্যাধীটিতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হংকং, ম্যাকাও ও তাইওয়ান।

এদিকে, দু’সপ্তাহের পর্যবেক্ষণ এবং সুর্নিদ্দিষ্ট পরীক্ষার পর প্রমোদতরী ‘ওয়ার্ল্ড ড্রিমসের’ ৩ হাজার ৬০০ আরোহীকে বন্দরে নামার অনুমতি দিলো হংকং। সারাবিশ্বে বেশিরভাগ দেশই চীনের প্রায়ই সকল যাত্রী ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করেছে। আমদানি রপ্তানীতেও চরমভাবে ধ্বস নেমেছে চীনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। চীনের সকল বাণিজ্য জাহাজও বেশিরভাগ বন্দরেই ঢুকতে দেয়া হচ্ছেনা বলে জানা যাচ্ছে। বাংলাদেশেও ১৭ চীনা নাবিক জাহাজেই আটকা পড়ে আছে বলে খবর পাওয়া যায়। বাংলাদেশ সরকার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে বাংলাদেশীদের ঢুকতে অনুমতি দিলেও বিশ্বের অনেক দেশ চীনে ঘুরতে যাওয়া পর্যটক ও যাত্রীদের তাদের নিজ দেশে ঢুকতে অনুমতি না দেয়ার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এক কথায় চীন এখন শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয় পুরো বিশ্ব থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে প্রায়।

চীনের উদ্ভব হওয়া এই মরণঘাতি ভাইরাসের বিষয়ে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন মতামত নিয়ে এখন তোলপাড় সারাবিশ্ব। ধর্ম ব্যবসায়ী বা ভণ্ড ও মিথ্যাচারীরা তাদের ধর্ম যুদ্ধের বার্তা বলে আখ্যায়িত করছে আবার চীন বিদ্বেষীরা মনে করছে তাদের কর্মফল বলে আখ্যায়িত করেছে।

তাদের চিরশত্রু দেশ গুলো চীনকে দূর্বল করার জন্যই এই মরণঘাতি ভাইরাস তৈরি করে পরমাণু বোমার বিপরীতে করুনা ভাইরাস ঢুকিয়ে দিয়েছে বলেই অনেকে মনে করেন। তার দুইটি কারণ হতে পারে;

১) ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চীন ইতোমধ্যে ভেটো দিয়েছে। এবং ইরানকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়েছিল। চীন ও রাশিয়ার ভেটোতে ৩য় বিশ্ব যুদ্ধের ধামাকাও চলছিল সর্বত্র। ইরানের একনিস্ট সহযোগী চীনকে থামাতেই যুক্তরাষ্ট্র এই ভাইরাস অস্ত্র প্রয়োগ করেছে বলেই বিশ্লেষকদের প্রাথমিক ধারনা। এতে যুক্তরাষ্ট্র সফল হয়েছে বলেও জ্ঞানীরা মনে করেন।

২) এখন যেহেতু ৩য় বিশ্বযুদ্ধ সন্নিকটে ভাবা হচ্ছে আর সেই যুদ্ধের একপক্ষের নেতৃত্ব দিবে চীন। আর সেই চীনকে আগে থেকে দূর্বল করতেই এই করুণা ভাইরাস (বোমার) বিস্ফোরন করা হয়েছে। এরই মধ্যে চীন অর্থনৈতিকভাবে  দূর্বল হয়ে তাদের প্রতিপক্ষরা হয়তো কোননা কোন ইস্যু নিয়ে চুক্তি করবে।

বিভিন্ন পশু প্রানী থেকেই এই করুণা ভাইরাসের উৎপত্তি হওয়ার বিষয়েও ভিন্ন মত আছে। হয়তো তারা পশু প্রানীতেই এই ভাইরাস প্রয়োগ করেছিল। আর সেসব পশু প্রানী ভক্ষণের কারণেই মানুষের শরীরে আক্রমন করেছে। চীনরা পৃথিবীর প্রাচীন জাতি হিসেবে পুরানকালের ন্যায় প্রাচীনকাল থেকেই তারা বিভিন্ন পশু ভক্ষণ করে আসছে। অর্থাৎ মানুষ সৃষ্টির পর থেকেই খেয়ে আসছিল। এটা তাদের স্বভাবজাত বিষয়। আর এই ভাইরাস অস্ত্র সেই পশু প্রানীতেই প্রয়োগ করেছে তাদের শত্রুরা।

এই অস্ত্রের বিরুদ্ধে চীন ইতোমধ্যে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ঠিকই তবে চীন এরই মধ্যে সেই মরণঘাতি  অস্ত্রের বিষয়ে জানতে পেরেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। তারা মনে করে; এরচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপেক্ষা করছে। এসব হলো পরাশক্তি দেশ গুলোর চড়ুইভাতি খেলা। কাউকে দোষারোপ করার অবকাশ হয়তো বিশ্ববাসীর নেই। তবে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ তাদের যাঁতাকলে পড়ে পিষ্ট হচ্ছে চিরতরে নিষ্পেষিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সম্রাজ্যবাদের থাবায় বিশ্বের সাধারণ মানুষ নিপীড়িত ও সুবিধা বঞ্চিতরা। অনুন্নত দেশগুলো এইসব বিজ্ঞান ও পরমাণু শক্তিধর দেশ গুলোর প্রতিযোগীতায় ধীরে ধীরে বিলীন হতে বসেছে। অনেক দেশ এখন ধনী দেশগুলোর ক্রীতদাসে পরিনত হয়েছে। এই বৈষম্যের শেষ কোথায়? কেউ জানেনা।

শক্তি প্রদর্শনের দ্বারা লুটপাট ও স্বার্থ আদায়ের যেমন পুরো দেশের মানুষ ব্যস্ত ঠিক তেমনি কর্তাদেশ গুলোও তাদের প্রচেষ্টা চলমান রেখেছে। এভাবে পৃথিবী একদিন ধ্বংস হতে পারে একদিন।

লেখকঃ প্রদীপ বি জয়, সাংবাদিক। banglasomoy@yahoo.com

শেয়ার করুন