করোনাকালীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ও পরিচালনা করার নতুন নিয়ম।

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীর ক্লাস শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এরই আলোকে সময়সূচি প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবারই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, আপাতত সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী যেদিন যেসব শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসবে, তাদের দুটি করে ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পরিকল্পনাটি অনুমোদিত হলে খুব শিগগির তা সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হবে।ওই কর্মকর্তাদের দেওয়া বক্তব্যের এক দিন পর সেটি জানিয়ে দেওয়া হলো।

মাউশির আদেশে বলা হয়, সময়সূচির সঙ্গে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যবহারিক ক্লাসগুলোও নির্ধারণ করা যেতে পারে। যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর সংযুক্ত রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠান ওই সব স্তরের জন্য নির্ধারিত ক্লাসগুলো সমন্বয় করে সময়সূচি প্রণয়ন করবে।

আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চলমান স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করে ২০২১ ও ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সময়সূচি করে শ্রেণি কার্যক্রম চালাবে।

মাউশি বলেছে, সময়সূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হবে, যেন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ, প্রস্থান বা অবস্থানের সময় স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের মতো কোনো বিষয় না ঘটে। সময়সূচি এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যেন বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে ও বের হয়।

এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আপাতত প্রাতঃসমাবেশ (অ্যাসেম্বলি) বন্ধ থাকবে এবং প্রতিদিন নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী তথ্য পাঠাতে হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ক্লাসের সময়সূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয় মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে মাউশি।

করোনার কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলছে। সরকারের সবশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি আছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এই ছুটি আর বাড়ছে না। কিন্তু দীর্ঘ বন্ধের ফলে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত চার কোটির বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় দেড় বছর ধরে শিক্ষাক্রম অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষে সশরীর পড়াশোনা হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত শিখনফল অর্জন করতে পারেনি। অ্যাসাইনমেন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করা হলেও তা শ্রেণিকক্ষের মতো কার্যকর হয়নি। এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি পূরণ করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষাবিদেরা বলছেন, এ ঘাটতি পূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।

শেয়ার করুন