প্রচ্ছদ     চট্টগ্রাম

2019-07-31 20:01:03

নিজাম উদ্দিন খান

তামাকজাত পণ্যে বিজ্ঞাপন ও ভেজাল খাদ্য বিক্রি বন্ধে তৃণমূলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে- এমপি দিদার

Picture Missiong

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব দিদারুল আলম বলেছেন মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী ২০৪০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ধুমাপান ও তামাকজাত পণ্য বিক্রি বন্ধ করা হবে একই সাথে খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে শুন্য সহনশীলতা প্রদর্শন করা হবে। তারই আলোকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন আকবরশাহ থানাকে তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন ও ভেজাল খাদ্য বিক্রি বন্ধে তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এলক্ষ্যে স্থানীয় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ইউপি চেয়ারম্যান, বাজার-ব্যবসায়ী সমিতি ও সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। আকবরশাহ থানা ও সিতাকুন্ড উপজেলাকে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় একটি মডেল এলাকায় তৈরী করা হবে। যেখানে একজন ভোক্তা তার অধিকারটুকু পরিপূর্ন ভাবে উপভোগ করতে পারবে। ২৯ জুলাই ২০১৯ইং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশনের আকবরশাহ থানা কমিটির তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন বন্ধ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে করনীয় নিয়ে ওরিয়েন্টেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত মন্তব্য করেন। মনসুরাবাদ মোস্তফা হাকিম কেজি স্কুল মিলনায়তনে ক্যাব আকবরশাহ থানা কমিটির সভাপতি ডাঃ মেজবাহ উদ্দীন তুহিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পেইন ফর টোবাকো ফ্রি কিডস’র সহায়তায় পিপলস জুবিল্যান্ট এনগেজমেন্ট ফর টোবাকো ফ্রি চিটাগাং সিটি প্রকল্প, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রামের আয়োজনে ওরিয়েন্টেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  মোস্তাফিজুর রহমান, ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, সিটিকর্পোরেশনের কাউন্সিলর জহিরুল আলম জসিম, আবিদা আজাদ। ক্যাব ডিপিও জহুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় ওরিয়েন্টেশনে আলোচনায় অংশনেন ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহ্জ্বা আবদুল মান্নান, ক্যাব মহানগর সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ কৃষ্ণ দত্ত, ক্যাব মহানগর কমিটির সদস্য সেলিম সাজ্জাদ, ক্যাব হালিশহরের এমদাদুল ইসলাম সৈকত, সমাজ সেবক হায়দার আলী, জহিরউদ্দীন বাবর, মোঃ হারুন, শিপু বিশ্বাস, ক্যাব উত্তর জেলা সদস্য সচিব শাহাদত হোসেন ও গিয়াস উদ্দীন প্রমুখ।

বক্তাগন আরও বলেন ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫ তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধ হলেও আইন প্র্রয়োগের দুর্বলতার কারনে নগরজুড়ে ধুমপানের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা এমনকি প্রশাসন, আদালত, হাসপাতাল, ক্লিনিক, হোটেল-রেস্তেুারা, দোকান, নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও ধুমপানের বিজ্ঞাপন ও বিক্রি মুক্ত নয়। অন্যদিকে ভোক্তা সংরক্ষন আইন’০৯ এবং নিরাপদ খাদ্য আইন’১৩ সরকার প্রণয়ন করলেও পবিত্র রমজানের সময় ছাড়া অন্যান্য সময়গুলিতে জেলা প্রশাসন ও সরকারের অন্যান্য বিভাগের তৎপরতা তেমন দেখা যায় না। ফলে মানুষ এখন আর না খেয়ে মরছে না, মরছে খেয়ে। আর এ খাদ্যে ভেজালের তৎপরতা এখন আর শুধু খাদ্যে থেমে নাই, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবের রিএজেন্টও রেহাই পাচ্ছে না। ফলে হাসপাতাল, ক্লিনিকে রোগীর রমরমা ব্যবসা। অনেকে আবার দেশ ছেড়ে বিদেশেও চিকিৎসার জন্য পাড়ি জমাচ্ছেন।
 
বক্তাগন আরও বলেন ধুমপান মাদক সেবনের প্রথম সোপান। আর নিজেরা ধুমাপায়ী না হলেও পরোক্ষ ধুমপানের কারনেও সমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। যার কারনে ক্যান্সার, হ্দরোগ, হাপানীর মতো প্রাণঘাতি রোগ মহামারি আকারে বেড়েছে। অন্যদিকে তামাকজাতপণ্য সেবনের কোন উপকারিতা আজ পর্যন্ত আবিস্কার হয়নি। পাড়া মহল্লায় দোকান, হোটেল-রেস্তোরায় প্রবেশ পথে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মুখে যত্রতত্র তামাকপণ্য বিক্রি, প্রদর্শন, বিভিন্œ উপঠৌকন দিয়ে তরুনদের ধুমপানে আকৃষ্ঠ করে প্রকারান্তরে মাদকাসক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে অনেক সম্ভবানাময় তরুন বিপথে পরিচালিত হয়ে পুরো সমাজকে কুলষিত করছে।

ওরিয়েন্টেশনে আরও বলা সরকার মাদক-ইয়াবার বিরুদ্ধে শুণ্য সহনশীলতা প্রদর্শন করলেও চাহিদা থাকায় মাদকের ব্যবসা বন্ধ করা যাচ্ছে না। সেকারনে জনবহুল স্থান বিশেষ করে দোকান, হোটেল-রেস্তোরা, হাসপাতাল, আদালত প্রাঙ্গন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাস-ট্রেন স্টেশনে ধুমপান ও বিজ্ঞাপন এবং প্রচারণা বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে সমাজ থেকে এই মারাত্মক ব্যাধি নির্মূল করা সম্ভব। 

মন্তব্য লিখুন